‘প্রকৃতির সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ’

Ayas-ali-Advertise
প্রকৃতির সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ
ইনসেটে লেখক মোঃ আনছার আলীর ছবি।
প্রকৃতির সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ
ইনসেটে লেখক মোঃ আনছার আলীর ছবি।
Facebook
Twitter
WhatsApp

প্রকৃতি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বৃক্ষ শুধু আমাদের ছায়া দেয় না, বরং জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। কিন্তু আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রকৃতির সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বৃক্ষ আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন নিঃসরণ করে, যা মানুষসহ সব প্রাণীর জন্য অপরিহার্য। বৃক্ষ জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাছাড়া, বৃক্ষ মাটি ক্ষয় রোধ করে এবং ভূমিধস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্য, ঔষধ, কাঠ, কাগজসহ অসংখ্য প্রয়োজনীয় জিনিস আমরা বৃক্ষ থেকেই পাই। পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আশ্রয়স্থলও হলো বৃক্ষ।

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণ একটি বড় সমস্যা। শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গত গ্যাস এবং বন উজাড়ের ফলে বায়ুদূষণ বাড়ছে। বৃক্ষরোপণ এই দূষণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গাছ বাতাস থেকে ক্ষতিকর গ্যাস শোষণ করে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে। তাছাড়া, বৃক্ষ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, ফলে গ্রীষ্মের তীব্রতা কমে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়।

অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও শিল্পায়নের কারণে ব্যাপক হারে বন উজাড় হচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে, ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। তাছাড়া, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হলো বৃক্ষরোপণ।

বৃক্ষ শুধু পরিবেশ রক্ষাই করে না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কাঠ, ফল, ফুল, ঔষধি গাছ ইত্যাদি থেকে আয় করা যায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহে বৃক্ষের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বৃক্ষ পরিবেশকে সুন্দর করে তোলে এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

প্রকৃতির সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি মানুষকে অন্তত বছরে একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যদিও সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তবে তা বাস্তবায়ন করা জরুরী এবং বন সংরক্ষণে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবেশ রক্ষা করা অপরিহার্য, আর পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো বৃক্ষরোপণ। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে বেশি বেশি প্রকৃতির উপকারী গাছ লাগাই এবং আমাদের সুন্দর পৃথিবীকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তুলি।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪