পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ইনজামুল হক (২৬) ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, গত ২ জুন ইনজামুল হককে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন গভীর রাতে হাসপাতালের পুরুষ অ্যাডমিশন ওয়ার্ডে আরেক রোগী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে দেয়ালে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন ইনজামুল। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাই মো. ইজাজুল হক অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করলে এ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, হাসপাতালে পৌঁছে তিনি ভাইয়ের মরদেহ ওয়ার্ডের বাথরুমের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা ও মুখে রক্ত ছিল। তবে অভিযুক্ত রোগীর বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই, কারণ তিনিও মানসিক রোগী। বরং দায়িত্বে অবহেলার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তারা।
ইজাজুল হকের দাবি, অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামকে ভর্তি হওয়ার সময় পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। এমন রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে অন্যদের সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের পরিবারও হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নাজমুলের চাচা রকিবুর হোসেন জানান, ঘটনার পর প্রথমে নাজমুলকে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেওয়া হলেও পরে মামলা হয়েছে জানিয়ে তাঁকে আটকে রাখা হয়। তাঁর দাবি, নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা পরিবারকে জানানো হয়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলায় নাজমুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি নিজেও মানসিক রোগী হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর মানসিক অবস্থা ও ঘটনার সময়কার সক্ষমতা পরবর্তীতে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. সেলিম মোরশেদ বলেন, ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না। মধ্যরাতে সংঘর্ষের সময় দায়িত্বরত কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, নিহত ইনজামুল ও অভিযুক্ত নাজমুল—দুজনই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের গোপনীয়তার স্বার্থে ওয়ার্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ৫০০ শয্যার এ বিশেষায়িত হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল আহসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য সুত্র: প্রথম আলো









