সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ সিলেটের নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বিকৃত, ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন কনটেন্ট নির্মাতা রাফিয়া আক্তার বৃষ্টি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলার আবেদন করেন। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২, ২৫ ও ২৭ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২৯/২০২৬।

মামলার আবেদনে রাফিয়া আক্তার বৃষ্টি অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁকে সামাজিক, পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৮ দিনের ব্যবধানে তাঁর ছবি বিকৃত করে একের পর এক ভুয়া পোস্ট ও ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কয়েকটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ছবি সম্পাদনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বৃষ্টি বলেন, তিনি শুধু একজন নারী নন, একজন মাও। ভবিষ্যতে তাঁর সন্তান যদি এসব বিকৃত ছবি দেখে, তাহলে সেটি তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত। তিনিও এসব ছবি দেখে বিভ্রান্ত হতে পারেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁর ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া পোস্ট ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, প্রতারণা, হানিট্র্যাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং অল্প সময়ে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার মতো ভিত্তিহীন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর ফেসবুক আইডিতে বারবার রিপোর্ট করে স্বাভাবিক কনটেন্ট প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ফেসবুক গ্রুপে বিদেশে অবস্থানরত এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে তাঁর ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করা হয়। ভবিষ্যতে আরও তথ্য ও ছবি প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাবের হুসাইন বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর মক্কেলের ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধকে জামিন-অযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ পেয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪