কোনো বড় ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার প্রতিটি ধাপে ছিল সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, নিবিড় তদারকি এবং কার্যকর পরিকল্পনা। ফলে নির্বিঘ্নে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পেরেছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো মুসল্লি।
তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শেষ হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ধাপে ধাপে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজিরা। শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে।
সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রথম দিনেই ১৩টি ফ্লাইটে মোট ৫ হাজার ৪৩৪ জন হাজির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনকারী শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবে পৌঁছায় ২১ মে। আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত ফিরতি হজ ফ্লাইট চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন, তাঁবু ভাড়া, ভিসা ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় নিবন্ধিত সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সৌদি আরবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
হজ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এবারের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, প্রশাসনিক টিম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, হাজিদের সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং আরাফা ও মিনায় বাংলাদেশি হাজিদের জন্য জুস বিতরণের মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হাজিদের ভোগান্তি কমাতে কিছু হজ প্যাকেজ ও বেসরকারি এজেন্সির কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি হজের ব্যয় কমানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে এবারের হজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার।
অন্যদিকে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্স ও হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এ বছর কোনো বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এটিকে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার সফল ফলাফল বলে উল্লেখ করেন।
তথ্যসুত্র: যুগান্তর








