আজ পবিত্র হজ: আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজির কণ্ঠে মুখর ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

আজ মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হচ্ছে। মক্কা, মিনা ও আরাফার প্রান্তরজুড়ে লাখো হাজির কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে হৃদয়স্পর্শী ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি। বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলায় মুখর হয়ে উঠেছে পবিত্র ভূমি।

এর আগে সোমবার (৮ জিলহজ) মিনার তাঁবুর নগরীতে দিন-রাত ইবাদত-বন্দেগিতে কাটান আল্লাহর মেহমানরা। মঙ্গলবার ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা বিশেষ বাস ও ট্রেনযোগে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৪ হাজার বাসের ব্যবস্থা করেছে।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের মূল খুতবা প্রদান করা হবে। এবারের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে খুতবাটি বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হচ্ছে।

খুতবা শেষে হাজিরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফ ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেবেন তারা। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অবস্থানকে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার অনন্য মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। পাশাপাশি মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর সংগ্রহ করবেন মুজদালিফা থেকে।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে হাজিরা বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। বিদায়ি তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে সৌদি আরবে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় হাজিদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৪০টির বেশি সরকারি সংস্থা ও প্রায় আড়াই লাখ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। হজ ব্যবস্থাপনায় এবার যুক্ত হয়েছে আধুনিক এআই প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ক্যামেরা ও উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশি হাজিদের জন্য মিনা ও আরাফাতে পৃথক আবাসন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪