শনিবার আবারও প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের দানবাক্সের টাকা আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, গণনার সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গণনা শেষে আগের মতোই প্রাপ্ত অর্থ সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসনের নামে খোলা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

এটি হবে ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনার আয়োজন। এর আগে গত ২২ জুন প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো সবার উপস্থিতিতে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেক ও একটি দানবাক্স খোলা হয়। সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা পরে ব্যাংকে জমা রাখা হয়।

মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ শুরু হয় গত ১২ জুন। ওই দিন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)–এর মাজার পরিদর্শন করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে চারটি নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং পুরোনো তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।

তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর মধ্যেই সরকার সারওয়ার আলমকে অন্যত্র বদলি করে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানায়।

পরে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে গত ২৬ জুন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪