এম. ইলিয়াস আলী, সামসুজ্জামানসহ ৩৮ নেতাকর্মী মামলা থেকে খালাস: বালাগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ উল্লাস

Ayas-ali-Advertise
এম. ইলিয়াস আলী, সামসুজ্জামানসহ ৩৮ নেতাকর্মী মামলা থেকে খালাস।
এম. ইলিয়াস আলী, সামসুজ্জামানসহ ৩৮ নেতাকর্মী মামলা থেকে খালাস।
Facebook
Twitter
WhatsApp

স্বৈরাচার সরকারের আমলে বহুল আলোচিত সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বিরোধী দলকে দমন করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃত্ব শূন্য করার লক্ষ্যে নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে দায়ের করা মামলায় অবশেষে আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, মহানগর ছাত্রদল নেতা রুবেল আমিন সুমন, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা তোফায়েল আহমদ সুহেলসহ মোট ৩৮ জন আসামি।

মামলা থেকে নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মীরা খালাস পাওয়ার খবরে বালাগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসা বাজারসহ বালাগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকে এ রায়কে সত্য ও ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে তৎকালীন সিলেট নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আমিন সুমন মুঠোফোনে জানান, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপিকে দমন করতে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে বাধ্য করা হয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এ রকম আরও তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় তিনি পালিয়ে আছেন। তাঁর মতো বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আরও অনেক নেতাকর্মী শেখ হাসিনা সরকারের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রুবেল আমিন সুমন বলেন, “আদালতের ন্যায়বিচারে আজ বহুল আলোচিত একটি মামলা থেকে আমি ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মুক্তি পেয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিহিংসামূলক সকল মামলা থেকে নির্দোষ মানুষকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।”

মিষ্টি বিতরণকালে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমদ সুহেল বলেন, “এই খালাস প্রমাণ করে মামলাটি ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, আজ সেই আনন্দেই মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।”

এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হলে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম আসামিদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ প্রমুখ।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় সিলেট-হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব-০২০১৩৩) যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে আরেকটি যাত্রীবাহী বাস (সিলেট-জ-১১-০৩৪৪) ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত হন চিত্রনায়িকা শাবনূরের পিতা কাজী নাছির (৭০)। পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয়দানকারী জোৎস্না বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে পায়ের জুতা, মুখমণ্ডলের ছবি, হাতঘড়ি ও কোমরের বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করেন।

ঘটনার পর ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা এবং পরিবহন ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৪৩৫, ৪২৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। মামলায় বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, এটিএম ফয়েজ, ইফতেখার আহমদ দিনার, রুবেল আমিন সুমন, তোফায়েল আহমদ সুহেলসহ মোট ৩৮ জনকে আসামি করা হয়।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪