সিলেট নগরের যানজট নিরসনে এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) বড় ধরনের অভিযানে নামছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এই অভিযান শুরু হবে। এর আগে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি অবৈধ যানবাহন ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অনিবন্ধিত গাড়ি চলাচল বন্ধ এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে। এছাড়া এক নম্বরে চলা একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশাও অভিযান চলাকালীন ধ্বংস করা হবে।
এসএমপি উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রাফিক, ক্রাইম ইউনিটসহ পুলিশ সদর দফতরের সব ইউনিট একযোগে মাঠে নামবে। ফুটপাত দখল করা হকারদের উচ্ছেদ, অবৈধ সিএনজি, ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও চোরাই গাড়ি ধরা হবে। এছাড়া যারা দোকানপাট সাজিয়ে ফুটপাত দখল করেছেন কিংবা ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, রোববার আল্টিমেটাম দিয়ে সোমবার থেকে যৌথ টিম মাঠে নামবে। মূলত, নগরের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনভোগান্তি কমানোই এই অভিযানের লক্ষ্য।
সূত্র জানায়, ফুটপাত থেকে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে হকার মার্কেট এলাকায় শেড নির্মাণ করা হলেও এটি কার্যকর হয়নি। অধিক বিক্রির লালসায় হকাররা পুনরায় সড়কে বসে ব্যবসা চালাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির কারণে হকার উচ্ছেদ কার্যকর হয়নি। ৫ আগস্টের পর পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নগরের মোড়ে, হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্কুল-কলেজের সামনে অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বন্দরবাজারস্থ লালবাজারের সামনে ফুটপাত থেকে সড়কে মাটি ভরাট করে দোকানিরা সিঁড়ি তৈরি করেছেন। জেল রোড থেকে বর্ণমালা স্কুল পর্যন্ত, প্রধান ডাকঘর, নগর ভবন, হাসান মার্কেট, কোর্ট পয়েন্ট, কালেক্টরেট মসজিদ, এসপি অফিস, ডিসি বাংলোর সামন এবং জালালাবাদ পার্কের চারপাশ অবৈধ স্ট্যান্ডে হকারদের দাপট বিরাজ করছে। এসব হকারের বেশিরভাগই বহিরাগত এবং রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে ব্যবসা চালাচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া এবং যাত্রী ওঠানামার সময় ঝামেলা ঘটছে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ফুটপাত হকারমুক্ত করা, রাস্তা থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরানো এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করা।
এসএমপি শনিবার নগরের যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আট দফা নির্দেশনা জারি করেছে। পুলিশ কমিশনারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে এবং তা চলমান থাকবে।
অটোমোবাইল সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে:
- কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা ভুয়া নম্বর প্লেটযুক্ত চলাচল করতে পারবে না।
- অনুমোদিত স্ট্যান্ডে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি সিএনজি রাখা যাবে না।
- অনুমোদনবিহীন স্থানে পার্কিং করা যাবে না।
- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়কেই হেলমেট বাধ্যতামূলক।
- সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল নিষিদ্ধ।
- বাস, মিনিবাস, কোচ, কার, মাইক্রোবাস ও হাইয়েস চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র ও সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবে না।
- কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বা ভাড়া নেওয়া যাবে না।
- হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও সিগন্যাল লাইট সচল না থাকলে গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।
- নগরের ভেতরে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বা পার্কিং করা যাবে না।
এসএমপি কমিশনার জানান, নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নবাগত কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ যোগদানের পর নাগরিক সেবায় ‘জিনিয়া’ নামে প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অ্যাপ চালু করেছেন। এছাড়া হেলমেট ব্যবহারকারীদের উৎসাহ দিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।
এছাড়া, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ১৩ সেপ্টেম্বর ক্বীন ব্রিজ থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার ও জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম। তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সাবেক মেয়র আরিফুল হক জানান, আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এবার প্রশাসনের সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন:: সিলেটে সাদা পাথর কাণ্ডে বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন রিমান্ডে।







