লাশ উত্তোলনের অনুমতির বিরুদ্ধে আদালতে গেলেন সালমান শাহর মামা

Ayas-ali-Advertise
1072
1072
Facebook
Twitter
WhatsApp

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর তার প্রকৃত মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) হত্যা মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন। পরে এ আদেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার আদালতের পূর্বের আদেশ বাতিলের আবেদন করেন মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর বাবা-মা নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় ছেলেকে দেখতে যান। সেখানে তার স্ত্রী সামীরা হক ও গৃহকর্মী জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে ফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর শারীরিক অবস্থা গুরুতর। দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঘটনার পর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আলমগীর কুমকুম। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুচি, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ মোট ১৭ জন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪