সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম চৌধুরী হত্যা মামলায় ১৩ বছর ৯ মাস পর তার ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং আরেকজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে সিলেট ডিভিশনাল স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রামাণিক এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল মুকিত।
২০১১ সালের ১৭ জুলাই নিখোঁজ হন আইনজীবী শামসুল ইসলাম চৌধুরী। ঘটনার পর তদন্তে বের হয়ে আসে, সম্পত্তির লোভে তারই ছেলে মাসুদ আহমদ চৌধুরী অন্য আসামিদের সঙ্গে মিলে তাকে হত্যা করে লাশ সুরমা নদীতে ফেলে দেয়।
মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—শামসুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ছেলে মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার জাহের আলী এবং ছাতক উপজেলার আনসার আহমেদ। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, আলামত নষ্টের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার আরেক আসামি বোরহান উদ্দিনকে আলামত নষ্ট করার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনকে প্রমাণের অভাবে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৮ জুলাই ছোট ছেলে মাসুদ আহমদ চৌধুরী কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু ২২ জুলাই থেকে তিনিও নিখোঁজ হয়ে যান। পরে একই বছরের ৪ আগস্ট শামসুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ছেলে মাহমুদ আহমদ চৌধুরী সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১৫ মে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাসুদ আহমদ চৌধুরী সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবাকে বাড়ি থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে ফেলে হত্যা করেন।
রায় ঘোষণার সময় মামলার প্রধান আসামি মাসুদ আহমদ চৌধুরী ও জাহের আলী দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিরাও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে পলাতক বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:: দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরলেন সিলেটের কন্যা জুবাইদা।







