বাসিয়া নদীর বুকে আজও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো : একটি পাকা সেতুর জনদাবি দীর্ঘদিনের

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বাসিয়া নদীর ওপর নির্মিত একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই দুই ইউনিয়নের সাত গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের রজকপুর এবং অলংকারী ইউনিয়নের টুকেরকান্দি গ্রামের মাঝামাঝি বাসিয়া নদীর ওপর প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের রজকপুর, নতুন সিরাজপুর ও শাহজিরগাঁও এবং অলংকারী ইউনিয়নের টুকেরকান্দি, শিমুলতলা, নোয়াগাঁও ও টেংরা গ্রামের মানুষ এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। কৃষি জমি নদীর ওপারে হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্কুল-কলেজ, বাজার ও শহরে যাতায়াতে এই সাঁকো ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে পাকা সেতু নির্মানের দাবি জানানো হলেও প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবায়ন হয়নি।

স্কুলশিক্ষার্থী শিমুল বলেন, ‘আমাদের স্কুলে যাতায়াতসহ প্রায় সব কাজেই এই বাঁশের সাঁকোই ভরসা। পাকা সেতু করে দিলে আমরা অনেক উপকৃত হব।’

কৃষক সফিক মিয়া বলেন, ‘আমাদের রজকপুরের বেশির ভাগ কৃষি জমি নদীর ওপারে। তাই কৃষিকাজের জন্য যাতায়াতের প্রয়োজনে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী। আগে এখানে নৌকা ছিল। কিন্তু নিয়মিত পাওয়া যেত না। পরে বাধ্য হয়ে আমরা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করি। তবে, ভারী মালামাল নিয়ে পারাপার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।’

স্থানীয় যুবক জাহেদ। জাহেদ তালুকদার বলেন, ‘জন্মের পর থেকে দেখে আসছি, অনেক নেতা এসে প্রতিশ্রতি দিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী গুমের শিকার না হলে পাকা সেতুর অভাবে আমাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হাতো না। তবে আশা করছি, তার সহধর্মিণী ও সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রশদীর লুনা আমাদের এই জনদাবিটি পূরণ করবেন।’

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য অতীতেও আমি চেষ্টা করেছি। এখনো সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এটি আমাদের দুটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত জরজর। বিশেষ করে আমার ইউনিয়নের অনেক কৃষি জমি নদীর ওপারে রয়েছে। তাই এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের দুই ইউনিয়নের লোকজন অনেক উপকৃত হবে।’

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪