দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। আজ মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান।
জানা গেছে, ঢাকায় ফিরেই তিনি ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে উঠবেন। এটি তার পিতার নিজস্ব বাসভবন। বাসায় ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা সতর্কতা।
ডা. জুবাইদা রহমানের নাম আলোচনায় আসে ২০০৮ সালে, যখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে, তারেক রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে মিলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে। এ মামলায় ২০২৩ সালে আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেলে আদালতের দেওয়া সেই রায় স্থগিত করা হয়।
পেশাগত জীবনে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জুবাইদা রহমান। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে মেডিসিনে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসক ক্যাডারে প্রথম হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে ২০০৮ সালে শিক্ষা ছুটিতে লন্ডনে যাওয়ার পর ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় তাকে বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সিলেট জেলায় জন্ম নেওয়া জুবাইদা রহমান বিশিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলীর কন্যা, যিনি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের সময় যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী তার চাচা। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে তার বিবাহ হয়।
আরও পড়ুন:: যে কারণে গুম হলেন ইলিয়াস আলী, জানালেন মির্জা আব্বাস।







