সিলেটের বিশ্বনাথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক সাবেক শিবির নেতার বাড়িতে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের সৎপুর গ্রামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা হেলাল আহমদের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী হেলাল আহমদ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কয়েকটি পোস্ট দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শুক্রবার বিকেলে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হেলাল আহমদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশের পর ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা ঘরের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কোনো বাধা ছাড়াই হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে এই তাণ্ডব চালিয়ে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে।
হামলার বিষয়ে হেলাল আহমদের পিতা আবুল ফয়েজ মো. আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেসবুকে মতপ্রকাশের জেরে আমার ছেলের অনুপস্থিতিতে আমাদের বাড়িতে যে নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়েছে, আমরা তার বিচার চাই। আমরা থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারণে বিএনপির ওই সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে আমাদের মামলা নেয়নি। আমরা খুবই অসহায় বোধ করছি।’
তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, ‘মনে করেছিলাম সরকার পরিবর্তনের পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিন্তু, বাস্তব চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।’
এলাকায় এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে প্রবাসীর বাড়িতে এমন বর্বরোচিত হামলা কতটা যুক্তিযুক্ত। এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা না নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জানমালের নিরাপত্তা ফিরে পান।








