ইসির সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের ৯ দফা দাবি

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর নেতৃত্বে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈঠকে মূলত চারটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মো. সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাঁর দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা উচিত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জামায়াতের দাবি, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের জানিয়েছে যে সামসুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি কমিশনের জানা ছিল না এবং সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রয়োজনে কমিশনের এ নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছে দলটি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। জাতীয় নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বৈষম্যমূলক এবং নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী বলে তারা মনে করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা এবং বর্তমানে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায় জামায়াত। দলটির মতে, প্রশাসকের দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিযোগিতার সমতা ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রীর প্রকাশ্য বক্তব্য এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে নিয়ে গেজেট প্রকাশের বিষয়েও সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশের আগেই গেজেট জারি করায় নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপের প্রভাবের প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তারা প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে সীমাবদ্ধতার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে বলে তাঁদের ধারণা।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও শিশির মোহাম্মদ মনির।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪