দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না।
শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চায় না জনগণ। তাঁর অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু রাজনৈতিক শক্তি এখন আওয়ামী লীগের শাসনামলের পথ অনুসরণ করছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ দমন করা না হলে জনগণ কাউকেই ছাড় দেবে না।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, এটি সারা দেশের মানুষের দাবি। জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তাঁরা অটল থাকবেন।
বক্তব্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বেহাল অবস্থারও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ চললেও মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া সিলেটে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানান জামায়াতের আমীর। তিনি বলেন, সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর আগে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকার ও সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকার সরে আসার প্রবণতা দেখাচ্ছে। এর প্রতিবাদেই এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।









