সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে ফারহানা বেগম নামে তিন সন্তানের এক জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ (১ম খণ্ড) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়বন্দ গ্রামের সোহেল আহমদের সঙ্গে কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের ফারহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে ফারহানার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের কারণে দুই দিন আগে ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সোমবার তিনি দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামে তার মামার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে রাতে সোহেল আহমদ ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজি অটোরিকশায় করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গভীর রাতে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের ভাই সেলিম উদ্দিন জানান, সোহেল আহমদ মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই তার বোনকে মারধর করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিসি বৈঠকও হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারহানা প্রায়ই বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতেন। সর্বশেষ ঘটনাতেও তাকে মামার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সোহেল আহমদকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।









