সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তবে মামলায় অভিযুক্ত তাঁর দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার তিন মাসের মাথায় এ মামলার রায় হলো।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। অপরদিকে তাঁর দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে বিচার শেষে তাঁদের খালাস দেওয়া হয়।
নিহত ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং ফাহিমার পরিবারের প্রতিবেশী। তিনি মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর, ৮ মে রাতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত চলাকালে জাকির হোসেন পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, সিগারেট আনার কথা বলে তিনি শিশুটিকে দোকানে পাঠান। ফেরার পর ঘর ফাঁকা পেয়ে তাঁর ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে যান।
আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শেষ হলো।








