কানাডা স্টুডেন্ট ভিসার খরচ ২০২৬

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

কানাডায় উচ্চশিক্ষার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ থাকায় প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়তে আবেদন করেন। তবে আবেদন শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা।

২০২৬ সালে কানাডার স্টাডি পারমিট (যা সাধারণভাবে স্টুডেন্ট ভিসা নামে পরিচিত) আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি, বায়োমেট্রিক, টিউশন ফি, মেডিকেল পরীক্ষা, ভাষা পরীক্ষার ফি এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় করতে হয়। আবেদনকারীর বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স ও প্রদেশভেদে মোট খরচের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে।

স্টাডি পারমিটের সরকারি আবেদন ফি

অর্থাৎ একজন নতুন আবেদনকারীর সরকারি আবেদন ফি বাবদ মোট ২৩৫ কানাডিয়ান ডলার ব্যয় হয়।

টিউশন ফি কত?

কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজভেদে টিউশন ফি ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে

  • ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে বছরে প্রায় ১২ হাজার থেকে ২২ হাজার কানাডিয়ান ডলার।
  • স্নাতক (Bachelor’s) প্রোগ্রামে ১৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার কানাডিয়ান ডলার।
  • স্নাতকোত্তর (Master’s) প্রোগ্রামে ১৮ হাজার থেকে ৪৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
  • চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স ও বিজনেস বিষয়ে টিউশন ফি তুলনামূলক বেশি।

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

স্টাডি পারমিট অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বছরের টিউশন ফি এবং কানাডায় থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়।

এ জন্য সাধারণত ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পন্সরের আয়ের নথি, শিক্ষা ঋণের কাগজপত্র বা অন্যান্য বৈধ আর্থিক নথি জমা দিতে হয়। শুধু ব্যাংকে অর্থ দেখালেই হবে না, সেই অর্থের উৎসও গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

মেডিকেল পরীক্ষার খরচ

কানাডায় পড়তে যাওয়ার আগে অনেক আবেদনকারীকে অনুমোদিত প্যানেল চিকিৎসকের মাধ্যমে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হয়।

বাংলাদেশে হাসপাতালভেদে এই পরীক্ষার খরচ সাধারণত ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা হতে পারে।

IELTS বা অন্যান্য ভাষা পরীক্ষার খরচ

কানাডার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য IELTS Academic, PTE Academic অথবা TOEFL-এর ফলাফল গ্রহণ করা হয়।

পরীক্ষাভেদে ফি ভিন্ন হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ফি দেখে নেওয়া উচিত।

অন্যান্য সম্ভাব্য খরচ

স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও কিছু খরচ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  • পাসপোর্ট নবায়ন (প্রয়োজন হলে)
  • শিক্ষাগত সনদ অনুবাদ
  • নোটারি
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • কুরিয়ার বা ডকুমেন্ট পাঠানোর ব্যয়
  • VFS Global-এর অতিরিক্ত সেবা গ্রহণের চার্জ

মোট কত টাকা লাগতে পারে?

২০২৬ সালে কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রথম বছরের মোট ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, শহর এবং ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। তবে সরকারি আবেদন ফি, বায়োমেট্রিক, প্রথম বছরের টিউশন ফি, মেডিকেল পরীক্ষা, ভাষা পরীক্ষার ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিলে আনুমানিক ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) প্রস্তুত রাখা যুক্তিযুক্ত।

অন্যদিকে প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, এমবিএ বা অন্যান্য উচ্চ ব্যয়বহুল প্রোগ্রামে ভর্তি হলে প্রথম বছরের মোট ব্যয় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি, প্রদেশ বা শহর, আবাসন ব্যয় এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার ওপর।

এছাড়া স্টাডি পারমিটের আবেদন মূল্যায়নের সময় কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা ও নথির সত্যতা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে। তাই পর্যাপ্ত অর্থের পাশাপাশি সেই অর্থের বৈধ উৎস এবং আর্থিক নথির গ্রহণযোগ্যতাও নিশ্চিত করা জরুরি।

আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ

আবেদন করার আগে কানাডা সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আর্থিক পরিকল্পনা আগেই প্রস্তুত রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো যায়।

২০২৬ সালে কানাডায় পড়তে যাওয়ার খরচ শুধু স্টাডি পারমিটের আবেদন ফিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয়, মেডিকেল পরীক্ষা, ভাষা পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও যুক্ত হয়। তাই আবেদন শুরুর আগে সম্ভাব্য সব খরচ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা করলে পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪