সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকা গিয়েছিলেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার যুবক মাহবুব সারওয়ার রাজন (২৫)। পরীক্ষা শেষে ট্রেনে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। নিখোঁজ থাকার দুই দিন পর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
নিহত রাজন জকিগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ধদত্ত গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম (কালু মিয়া)-এর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সরকারি একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় যান। শুক্রবার পরীক্ষা শেষে উপবন এক্সপ্রেসে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা স্বজনদের জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
নিহতের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না জানান, অনেক চেষ্টা করেও রাজনের কোনো সন্ধান না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়। পরে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহের ছবি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রাজনের বলে নিশ্চিত হন পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
রাজনের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান রাত প্রায় আড়াইটার দিকে বাহুবল এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যেই তার সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
পরিবার জানায়, প্রায় আট মাস আগে রাজনের বিয়ে হয়েছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নি.) মো. রাশেদ পারভেজ ছায়িম। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।








