সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে মাজারের ওরসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার অবশেষে সমাধান হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে উত্তেজনার অবসান ঘটে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন এমপি। বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্টরা সমঝোতায় পৌঁছালে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
বৈঠকে এমপি স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতে কোনো মাজারে ওরস আয়োজনের ক্ষেত্রে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে জিকির ও ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে আয়োজনের নির্দেশনা দেন তিনি।
একইসঙ্গে মাজারকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে মাদক বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না রাখার ব্যাপারেও কঠোর অবস্থান নেন এমপি। তিনি বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া ওরসে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে তিনি ঘটনাস্থল শ্রীপুর গ্রামে গিয়ে পীর ইব্রাহিম মাস্তানের মাজার ও সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
সালিশ বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি, বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ রাতে ওরস চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে পাল্টাপাল্টি হামলায় কয়েকটি বাড়িঘর ও একটি মসজিদের কাঁচ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।





