যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি মো. নুরুল ইসলামের নতুন দুটি কাব্যগ্রন্থ ‘বিশ্বজুড়ে আলো’ ও ‘বোধ ও বেদনা’ অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার রাতে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হলরুমে বুনন প্রকাশনীর উদ্যোগে বর্ণিল প্রকাশনা ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, প্রবাসের কঠিন ও ব্যস্ত জীবনের মাঝেও যারা নিয়মিত সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান, তারা প্রকৃত অর্থেই সংস্কৃতির সৈনিক। কবি মো. নুরুল ইসলাম সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি দূরদেশে থেকেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলামের কবিতায় মানবিক বোধ, জীবনবোধ এবং প্রবাসজীবনের গভীর বেদনা শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই ইউকের সভাপতি এ কে এম ইয়াহিয়ার সভাপতিত্বে এবং বুনন প্রকাশনীর পরিচালক ও বুনন সম্পাদক কবি খালেদ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি মাফিজ খান, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরাজুল হক, সাবেক অধ্যক্ষ ও কথাসাহিত্যিক তাপসী চক্রবর্তী লিপি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ লিয়াকত শাহ ফরিদী, কবি ও কথাসাহিত্যিক ওয়াহিদ সারো, ব্যবসায়ী এ টি এম শোয়েব, কবি আয়শা মুন্নী এবং কবি শাব্বির জালালাবাদী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক আল-আমিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি এক প্রাণবন্ত সাহিত্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কবি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারাটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অতিথিরা বলেন, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে দুঃসাহসিক ও প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে কবির সহধর্মিণীর আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তারা মন্তব্য করেন, নুরুল ইসলামের কবিতা বিশ্ববোধের সঙ্গে ব্যক্তিগত অনুভূতির এক সার্থক মেলবন্ধন।
উল্লেখ্য, কবি মো. নুরুল ইসলাম ইতোমধ্যে ১২টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।






