কুরআনের আলোয় আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেটের বিশ্বনাথের আল মাদরাসাতুল হানাফিয়্যাহ ও এতিমখানায় হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলীকে পাগড়ি প্রদান এবং বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাদরাসার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন হাবীবুর রহমান। মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাওলানা হাবিবুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ এইড ইউকের সভাপতি ও বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রঞ্জ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি আবুল হোসেন মামুন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ জামাল মিয়া, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মহিলা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হক, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য মুস্তাক আহমদসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুভূতি প্রকাশ করে সদ্য হাফেজ হওয়া মোহাম্মদ আলীর চাচা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার ভাইয়ের একমাত্র স্বপ্ন ছিল সন্তানকে হাফেজে কুরআন হিসেবে গড়ে তোলা। ভাই বেঁচে থাকলে আজকের এই দিনে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীর মামা আমীর হোসেনও অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তজম্মুল আলী রাজু, আব্দুল গণি অ্যান্ড সন্স মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আফিজ হাসান রাসেল, হাফিজ আল আমিন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য আব্দুস সালাম মুন্নাসহ মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রহিম রঞ্জ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি হাফেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলীর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেন এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শহিদুর রহমান ও শিক্ষক মাওলানা জিয়াউল হক যৌথভাবে হিফজ সমাপনকারী শিক্ষার্থীকে পাগড়ি প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, হিফজ সম্পন্নকারী এই শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ। তাদের সুশিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নে মাদরাসা শিক্ষার বিকল্প নেই।
শেষে কুরআনের হাফেজরা যেন ইসলামের সঠিক দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে—এমন দোয়া ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।






