বিশ্বনাথে প্রবাসী পুত্রের বন্দোবস্তকৃত জমি দখলচেষ্টা: ডিসি বরাবর মায়ের স্মারকলি

Ayas-ali-Advertise
বিশ্বনাথে প্রবাসী পুত্রের বন্দোবস্তকৃত জমি দখলচেষ্টা: ডিসি বরাবর মায়ের স্মারকলি
বিশ্বনাথে প্রবাসী পুত্রের বন্দোবস্তকৃত জমি দখলচেষ্টা: ডিসি বরাবর মায়ের স্মারকলি।
বিশ্বনাথে প্রবাসী পুত্রের বন্দোবস্তকৃত জমি দখলচেষ্টা: ডিসি বরাবর মায়ের স্মারকলি
বিশ্বনাথে প্রবাসী পুত্রের বন্দোবস্তকৃত জমি দখলচেষ্টা: ডিসি বরাবর মায়ের স্মারকলি।
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথে প্রবাসী পুত্রের নামে সরকার কর্তৃক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও দখলের পায়তারার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন এক মা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর (মৌলভীরগাঁও) গ্রামের মৃত আফতাব আলীর স্ত্রী এবং প্রবাসী ফয়জুর রহমানের মা ফুলমালা বেগম এ স্মারকলিপি দায়ের করেন। স্মারকলিপির ডকেট নম্বর ৩৩ (১৮.০১.২৬ ইং)।

স্মারকলিপিতে ফুলমালা বেগম দাবি করেন, উপজেলার মৌলভীরগাঁও মৌজার জেএল নং–৫৩ এর আওতাধীন ১নং খতিয়ানের ১৯৩০ দাগে অবস্থিত ০.৬২ একর জমি ‘ভিপি কেস নং ০৯/২০০৪-০৫ ইং’ এর মাধ্যমে সরকার তাঁর প্রবাসী পুত্র ফয়জুর রহমানের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর পুত্র দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করায় এবং তিনি নিজে অতিশয় বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় উক্ত জমিসহ বসতবাড়ি কাজের লোকের মাধ্যমে দেখাশোনা ও সংরক্ষণ করে আসছেন। কিন্তু গত ২১.১২.২৫ ইং তারিখে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উপজেলার চৈতননগর গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র আজিজুর রহমান সুরত, মৃত তাইদ উল্লাহর পুত্র নজির উদ্দিন, মৃত রইছ উল্লাহর পুত্র ইব্রাহিম আলী সিজিল এবং মীরেরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র আবুল কালামসহ প্রায় ৫০-৬০ জন লোক তাঁর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করে।

এ সময় অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে তিনি দ্রুত বাড়ির গেইট বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বাড়ির গেইটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং উচ্চস্বরে তাকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বলে। এ ঘটনায় তিনি বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ি সংলগ্ন সরকারের মালিকানাধীন এবং তাঁর প্রবাসী পুত্রের নামে বন্দোবস্তকৃত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে বেআইনিভাবে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি গাছ কেটে ফেলে। পাশাপাশি সেখানে পাকা পিলার স্থাপন করে পাকা বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। উক্ত জমির মধ্য দিয়েই তাদের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা অবস্থিত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ফুলমালা বেগম দাবি করেন, অভিযুক্তরা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ওই রাস্তা ও জমির মাটি কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু উক্ত জমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন, তাই সেখানে সরকারের স্বত্ব ও স্বার্থ জড়িত। যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জমিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের বৃহত্তর স্বার্থে অভিযুক্তরা যেন সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ বা মাটি কাটতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

তবে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইব্রাহিম আলী সিজিল। তিনি বলেন, তাদের জানা মতে ওই জমির মালিক আজিজুর রহমান সুরত। সরকারের সঙ্গে মামলা পরিচালনার মাধ্যমে তিনি নিজের পক্ষে রায় পেয়েছেন। ফলে নিজের জায়গায় কী করবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক বলেও দাবি করেন তিনি।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪