সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় স্বামী খালাস পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষের ওপর হামলা চালান স্ত্রী ও মামলার বাদিনী মোছা. নুরজাহান বেগম। এ সময় রক্তাক্ত জখম হন আসামিপক্ষের দুইজন সদস্য। পরে পুলিশ নুরজাহান বেগম ও তার ছোট ভাই মনজাম মিয়াকে (২৮) আটক করে হেফাজতে নেয়।
ঘটনাটি মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে আদালত ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় ঘটে । আহতরা হলেন—সিলেট নগরীর ঘাসিটুলা এলাকার জামাল উদ্দিন (৫৭) এবং বিশ্বনাথের সোনাপুর গ্রামের সাদিকুর রহমান (২৯)।
জানা গেছে, যৌতুক নিরোধ আইনের বিশ্বনাথ সিআর মামলা নং ৪৯৭/২০২৩–এর একমাত্র আসামি ওসমানীনগরের মো. আব্দুস শুকুরকে খালাস দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর বাদিনী নুরজাহান বেগম (৩৮) ৬ষ্ঠ তলা থেকে থেকে দৌড়ে ৩য় তলায় পৌঁছে আসামিপক্ষের ওপর হামলা চালান। এসময় তিনি আসামিপক্ষের লোকজনদের উপর চাকু ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকলে আসামিপক্ষের লোকজন রক্তাক্ত জখম হন। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হলে তারা দৌড়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
পরবর্তীতে আদালতের দায়িত্বরত পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নুরজাহান ও তার ভাইকে আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে একটি চাকু, হাতুড়ি ও সেলাই রেঞ্জ জব্দ করে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার খালাস ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাদিনী ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় দুইজন আহত ও দুইজন আটক হয়েছেন। তবে এখনও কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরোও পড়ুন:: লালাবাজারে রেস্টুরেন্ট ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন বিএনপি নেতা শিফতা





