বিশ্বনাথে বাউল গানের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারালেন শিল্পী পেহেলি ভৈরবী

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকার ছাবাল শাহ মাজারে বাউল গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৯)। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাঁর মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় পেহেলি ভৈরবীসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন।

নিহত পেহেলি ভৈরবী কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা বৈরাগীবাজার এলাকার ছাবাল শাহ মাজারে আয়োজিত বাউল গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সিলেটে এসেছিলেন পেহেলি ভৈরবী। অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসে করে কিশোরগঞ্জের চণ্ডীবের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পেহেলি ভৈরবীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়।

নিহত অন্যরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বারি মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৬), কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান হোসেন রাহিম (১৯), ঢাকা জেলার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। এ ছাড়া নিহত বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে কাজ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)।

ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তাজপুর স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা অপু মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার পর থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নিহতদের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস জব্দ করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪