বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার ফিফার নতুন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এমনকি প্রয়োজন হলে বিশ্বকাপ বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত ইউরোপের সদস্য দেশগুলো।
মঙ্গলবার ফিফা জানায়, তারা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফইর নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। ফিফার দাবি, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন মিললে আগামী চার বছরে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।
তবে এই পরিকল্পনাকে ফুটবলের স্বার্থবিরোধী বলে মনে করছে উয়েফা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা কোনো ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার করা উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলে ইউরোপের দেশগুলো বিশ্বকাপ বর্জনের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণেই জরুরি বৈঠকে আলোচনা হবে।
এর আগেও ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর অন্তর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। সে সময় উয়েফার তীব্র বিরোধিতা ও বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সংস্থাটি। এবারও একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদ নয়। এটি সেই মানুষদের, যারা প্রতি সপ্তাহে মাঠে এসে নিজেদের দলকে সমর্থন করেন।’
ফিফা ও উয়েফার সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই বেড়েছে। নতুন এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা সেই বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফিফা। পরে হঠাৎ করেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে কয়েকটি জাতীয় ফুটবল সংস্থা। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, তারা আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানত না।
উয়েফা বলেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ, এর শাসনব্যবস্থা এবং খেলাটির স্বকীয়তা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত হওয়া উচিত নয়। শুধু জাতীয় ফুটবল সংস্থাই নয়, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং সরকারগুলোকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।









