রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে সম্পূর্ণভাবে ঢাকা জেলার প্রশাসনিক সীমানার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় নতুন তিনটি উপজেলা গঠনসহ মোট ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বড় অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং অবশিষ্ট অংশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এ কারণে প্রকল্প পরিচালনা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছিল। এসব সমস্যা নিরসনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলার অধীনে আনার প্রস্তাব দেয়, যা নিকার সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
সভায় আরও তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগরের ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে নিকার।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের পাঁচটি সড়ক বিভাগ নিয়ে বগুড়ায় পৃথক একটি সড়ক জোন গঠনের প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিকারের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় নিজস্ব প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।








