পরীক্ষার ফি থাকছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, নতুন সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

Ayas-ali-Advertise
প্রতীকি ছবি।
প্রতীকি ছবি।
Facebook
Twitter
WhatsApp

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে কোনো ফি দিতে হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায় নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, টাকার পরিমাণ কম হলেও এটি অবৈতনিক শিক্ষার মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আপাতত পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় সরকারিভাবে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সাধারণত বছরে ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক—এই তিন ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের সর্বশেষ অবস্থানের ফলে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার অবৈতনিক চরিত্র অক্ষুণ্ন থাকছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪