ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, যা ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন হিসেবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আগামীকাল রোববার শুরু হচ্ছে। এটি বর্তমান সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। সাধারণত বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ সময় ধরে চলে থাকে। এবারের অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিষ্পত্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে গঠিত বিশেষ কমিটিও সংসদে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।
শনিবার বিকেলে সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, ১১ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে এবং ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস করা হবে। এরপর ১৬ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে।
তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাশাপাশি এ অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছিল। ওই অধিবেশনে ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছিল। তবে এখনো বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতিনিধিদের নাম জমা দেয়নি।
সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে তাদের কিছু নীতিগত ও ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।
বিরোধী দলের সূত্র বলছে, তারা সংসদীয় বিশেষ কমিটির পরিবর্তে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে তারা বিশেষ কমিটিতে অংশ নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
তবে সরকারি দল আশাবাদী যে বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত কমিটিতে প্রতিনিধিদের নাম দেবে। এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধন সময়ের দাবি এবং এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দলও এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে।
সরকারি দল ইতোমধ্যে বিশেষ কমিটির জন্য ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। তালিকায় বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন। বাকি পাঁচ সদস্যের নাম বিরোধী দলের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।









