ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান

Ayas-ali-Advertise
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান
Facebook
Twitter
WhatsApp

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশকে নতুন করে পুনর্গঠন করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া তাদের রাজনৈতিক অধিকার পুনরায় প্রয়োগের সুযোগ পাবে। গত এক যুগে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থেই দেশ পরিচালনা করেছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে জনগণ নিজেদের অধিকার ফিরে পাবে। যারা এই সময়কালে জীবন দিয়েছেন বা নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, গত এক দশকে দেশের মানুষ মতপ্রকাশের অধিকার ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নারী ও যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েছে। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু প্রতিনিধি নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকব না; বরং দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নেব।

নারী ক্ষমতায়নকে জাতীয় উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত না করলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করা হয়েছিল, যার ফলে আজ লাখো নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত। বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে। নারী স্বাবলম্বী হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।

ক্ষমতায় গেলে জনগণের জন্য স্বল্প ব্যয়ে স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পকারখানা, চা ও কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। যুবসমাজের জন্য আইটি পার্ক ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে। পাশাপাশি হিমাগার, মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হবে এবং সরকার রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের দায়ভার সরকার গ্রহণ করবে।

জনসভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে কথা বললে জনগণের কোনো উপকার হয় না। জনগণ জানতে চায়, কে তাদের জন্য কী করবে। বিএনপি জনগণের কল্যাণে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে। দেশের মানুষই ক্ষমতার মূল উৎস—এ বিশ্বাস থেকেই বিএনপির রাজনীতি পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা। এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধির নির্বাচন নয়, এটি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচনের প্রতীক।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪