শিশুর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় পরিবার থেকেই—আর সেখানে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পিতা-মাতার। শৈশবকালেই সন্তানের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে শৈশবকাল থেকেই পিতা-মাতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণ বাজার এলাকায় অবস্থিত বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ২৫তম শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রায় ৩২ বছর আগে ‘বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র যাত্রা শুরু হয়, যা ছিল একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রাস্ট নিজ এলাকার মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যে অবদান রেখে চলেছে, তা অনন্য। শিক্ষার উন্নয়নে প্রবাসীদের এই অবদান জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।
অনুষ্ঠানে ১০টি ক্যাটাগরিতে বিশ্বনাথ উপজেলার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নগদ শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ-এর সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, প্রতিবছর বোর্ড পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। তিনি বলেন, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের উদ্যোগে যদি বোর্ড পরীক্ষার আগে দক্ষ শিক্ষকদের মাধ্যমে বিশেষ ক্লাস চালু করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন পৌর শহরের পুরাণ বাজার মাছাহাটা মসজিদের ইমাম মাওলানা খায়রুল ইসলাম। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রাস্টের প্রয়াত ট্রাস্টিদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ট্রাস্টি মাওলানা আশরাফুর রহমান। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন।
বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের প্রেসিডেন্ট মাফিজ খানের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি গুলজার খান, সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু ও প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিরপুরী, বিশ্বনাথ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফিল্ড অফিসার আব্দুল হামিদ, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের এক্সিকিউটিভ মেম্বার আবুল হোসেন মামুন ও গিয়াস উদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি হাজী রইছ আলী।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি আব্দুল মজিদ, বসির উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, গৌছ আলী, আলহাজ্ব গৌছ খান, আব্দুল কুদ্দুছ, মাকরাম আলী আফরোজ ডিএল, সিরাজুল ইসলাম, সেবুল মিয়া, মুমিন খান মুন্না, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, মাসুক মিয়া, আব্দুন নূর, আজহার আলী, নুরুল ইসলাম, মনির আহমদ, আব্দুল গফুর, সানাম মিয়া আতিক, ফারুক মিয়া, শাহ নুরুল আলম, আলা উদ্দিন, ডাক্তার শানুর আলী মামুন, বাবরুল হোসেন বাবুল, আবুল কাশেম, মো. ইয়াহইয়া, নেছার আহমদ, আব্দুল বাছিত বকুল, নাজমুর রহমান, সাহাব উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, ফারুক মিয়া, আবুল কালাম, এখলাছুর রহমান, ফজলুর রহমান, রুহেল মিয়া, সায়েস্থা মিয়া, শাহ সাহিদুন নুর ইসলাম, এম. এ মতিন, হরুফ মিয়া, সাজিদ আলী, আব্দুর রব, রফিক মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, শেখ হারুনুর রশীদ, আবুল কালাম, এনামুর রহমান, আবুল বাসির খান, আনহার মিয়া, আব্দুল খালিক গাফফার, আব্দুল বাছিত, মিজানুর রহমান, আব্দুল গফ্ফার, আবুল বাশার মিয়া, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, নূরুল ইসলাম, রফিক মিয়া, প্রবীণ মুরব্বি গোলাব খান, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাবেক সভাপতি কাজী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।







