সিলেটে গৃহপরিচারিকার প্রেমের জেরে প্রাণ গেল সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের গৃহপরিচারিকাকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ)। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি। মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

পুলিশ কমিশনার বলেন, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে কোতোয়ালি থানার রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত একটি বিশেষ দল গঠন করে। পরে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বাবুল মিয়াকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শনাক্ত করা হয়। বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে তাঁকে রায়নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত মো. আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বাবুল বিভিন্ন সময় রাজমিস্ত্রি ও রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। ওই বাড়িতেও তিনি আগে কাজ করেছিলেন।

পুলিশের দাবি, বুধবার একটি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় যান বাবুল। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেন। পরে একটি কক্ষে তাহমিনার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

পুলিশ জানায়, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাসার বারান্দা দিয়ে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। পরে বিশেষ দলের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল এলাকায় ছুরিটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বাবুল তাঁর বাড়ি চাঁদপুর বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঠিকানা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

এদিকে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

যেভাবে প্রকাশ্যে আসে হত্যাকাণ্ড

বুধবার সকাল ৯টার দিকে রায়নগর এলাকায় আব্দুস সাত্তারের বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। বাসায় অসুস্থ কেউ চিৎকার করছেন, এমনটা ভেবে তখন কেউ এগিয়ে যাননি। পরে সকাল ১০টার দিকে বাসার রঙের কাজের জন্য এক মিস্ত্রি এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।

এ সময় পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলার এক ভাড়াটে দেখতে পান, আব্দুস সাত্তারের বাসার দরজার নিচ দিয়ে বারান্দায় রক্ত গড়িয়ে বের হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় পৌনে পাঁচটার দিকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসার একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তারের এবং অন্য একটি কক্ষে সুরাইয়া বেগম ও তাহমিনার মরদেহ পড়ে ছিল। বাসার দক্ষিণ দিকের একটি দরজা দিয়ে হত্যাকারী বেরিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই দিক দিয়ে দোতলা থেকে নিচে নামার পথেও রক্তের দাগ দেখা যায়।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪