সিলেটে যেভাবে বাসায় ঢুকে খুন করা হয় স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেট মহানগরের রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় একটি বাসায় ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকাল নয়টার দিকে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার পর পেছনের দরজা দিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

পুলিশ বলছে, বাসার ভেতরের আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে ডাকাতির পাশাপাশি পারিবারিক পূর্ববিরোধের বিষয়টিও তদন্তে রাখা হয়েছে। বাসা থেকে স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান কোনো জিনিস খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকাল নয়টার দিকে সাত্তারের বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। তবে বাসার মালিক অসুস্থ থাকায় তাঁর কোনো সমস্যা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। পরে পাশের বাসার লোকজন সাত্তারের বাসার বারান্দায় রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মহানগর তাঁতীদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম বেলাল বলেন, সকাল নয়টার দিকে বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। পরে সকাল ১০টার দিকে বাসায় রঙের কাজ করতে আসা এক মিস্ত্রি ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। এর মধ্যে পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলার এক ভাড়াটে বাসার দরজার নিচ দিয়ে বারান্দার দিকে রক্ত গড়িয়ে বের হতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তারের এবং অন্য একটি কক্ষে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল।

ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা জানান, বাসার দক্ষিণ পাশের একটি দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা বেরিয়ে গেছে বলে আলামত পাওয়া গেছে। ওই দরজা দিয়ে নিচে নামার পথেও রক্তের দাগ দেখা যায়।

আব্দুস সাত্তার রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রবীণ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একসময় তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আখাখাজনায়।

মিতালী আবাসিক এলাকায় তাঁর পাশাপাশি তিনতলা দুটি ভবন রয়েছে। ১১১ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে থাকতেন। ভবনের অন্য তলা এবং পাশের ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ভাড়াটেরা বসবাস করেন।

আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বয়সজনিত কারণে তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতি অথবা পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ পাওয়া গেছে। একটি দলিলও উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও স্পেশাল টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ক্রাইম সিন সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪