বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে চায় গ্রিস, নবায়ন হবে শ্রম অভিবাসন চুক্তি

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপের দেশ গ্রিস। একই সঙ্গে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রম অভিবাসনবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়নের আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার প্রতিরোধ, বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী।

এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। বৈঠকে বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, ‘গ্রিক মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, আমাদের সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে এবং বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী আনা হবে। তবে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীরা থাকার অনুমতি পাবেন না।’

এ ছাড়া গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও জানান তিনি।

যেসব খাতে কর্মীর চাহিদা

গ্রিসে রেস্টুরেন্ট, কৃষি, পর্যটন ও নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো হলে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশিদের অনিয়মিতভাবে গ্রিসে প্রবেশের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো গেলে দালালচক্রের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে ইউরোপযাত্রার প্রবণতাও কমতে পারে।

২০২২ সালের চুক্তিতে যা ছিল

২০২২ সালের সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার কর্মী নেওয়ার কথা ছিল। একই চুক্তির আওতায় গ্রিসে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশিকে বৈধতার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশে গ্রিসের নিজস্ব দূতাবাস না থাকা এবং ভিসা প্রক্রিয়া দিল্লিনির্ভর হওয়ায় চুক্তির বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। দিল্লিতে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেটের কারণেও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন করে সমঝোতা স্মারক নবায়ন ও বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার হলে গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধভাবে কাজের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪