সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দয়ামীর-দেওয়ান বাজার সড়কের মাদরাসা বাজার থেকে মোরার বাজার অংশে চলমান সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাদা ও পানির ওপর কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি এবং অপরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়েই নয়, প্রকল্পের নকশা ও এস্টিমেট প্রণয়নের বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় গর্ত, ভাঙন এবং দুর্বল বেইজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়কে টেকসই সংস্কারের পরিবর্তে শুধু উপরি-তল সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়ে থাকলে তার দায় এস্টিমেট প্রস্তুতকারী প্রকৌশলীও এড়াতে পারেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কার্পেটিং খুঁড়ে অনেক স্থানে পলিমাটি দিয়ে রোলার করা হচ্ছে। বড় বড় গর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও জমে থাকা কাদা ও পানির মধ্যেই কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কারিগরি মূল্যায়ন ও টেকসই সংস্কার পরিকল্পনা করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের মতে, প্রকল্পের এস্টিমেট প্রণয়নের সময় প্রয়োজনীয় বেইজ স্ট্যাবিলাইজেশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মানসম্মত উপকরণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি অথবা বাস্তবায়নের সময় সেগুলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চলমান সংস্কারকাজের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটিকে সরকারি অর্থ ব্যয়ের নামে দায়সারা সংস্কার বলে মন্তব্য করেছেন।
জানা গেছে, প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার এলজিইডির আওতাধীন। সড়কটি পশ্চিমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দয়ামীর বাজার এবং পূর্বে সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের মোরার বাজারকে সংযুক্ত করেছে। প্রতিদিন হালকা ও ভারীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়কে চলাচল করে।
বিশেষ করে মাদরাসা বাজার থেকে মোরার বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের পাশে দুটি বাজার, গহরপুর জামেয়া, দেওয়ান আব্দুর রহিম দ্বিপাক্ষিক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হযরত শাহ সুলতান মাদরাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।
দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম শামিম এবং গহরপুর জামেয়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কায়ুম বলেন, “সড়ক সংস্কারে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। এভাবে কাজ চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হবে। জনগণের স্বার্থে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারকাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
তারা আরও বলেন, “যদি এস্টিমেট ও কারিগরি পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, তাহলে এমন নিম্নমানের সংস্কারের সুযোগ থাকত না। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে এস্টিমেট প্রস্তুতকারী প্রকৌশলীর ভূমিকাও তদন্ত করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজমির শরীফ বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংস্কারকাজ চলছে। অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে পানি জমে থাকতে পারে। পানি সরে গিয়ে শুকিয়ে গেলে কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সম্প্রতি সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেছেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু পরিদর্শন নয়, প্রকল্পের নকশা, এস্টিমেট ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় নিম্নমানের এই সংস্কারকাজ কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের নতুন নজির সৃষ্টি করবে।








