সিলেটে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে মো. সেলিম হাসান কাওছার নামে একজনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার, নির্যাতন এবং কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে র্যাব ও পুলিশের ২৫ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী কাওছারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস।
মামলার আবেদনটি করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামের মৃত আওলাদ হোসেনের ছেলে মো. কাওছার হোসেন। তিনি সিলেটের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন র্যাব-৯ এর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা কাওছারকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করেন। অথচ যে গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়, সেখানে কাওছারের নামই ছিল না। পরোয়ানাটি ভুয়া ছিল বলেও দাবি করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার দেহে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। এরপর তাকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরদিন, ২০ জুন পুলিশ কাওছারকে আদালতে হাজির করলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান, কাওছারের নাম এজাহার, এফআইআর ও চার্জশিট কোথাও উল্লেখ ছিল না। এ প্রেক্ষিতে কাওছারের পরিবার আইনজীবীর মাধ্যমে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
৩০ জুন আদালত বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে কাওছারকে জামিনে মুক্তি দেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কাওছার সিলেটের সিনিয়র স্পেশাল ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন করেন। এ মামলায় র্যাব ও পুলিশের ১৮ সদস্যসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, আদালতে মামলার আবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং এতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন বাদীপক্ষ।
আরও পড়ুন:: সিলেটে স্ত্রীর অভিযোগ, স্বেচ্ছায় বিয়ে করায় স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা।






