শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন ত্যাগ করে পরপারে চলে গেলেন শিক্ষিকা মাহরিন

Ayas-ali-Advertise
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন ত্যাগ করে পরপারে চলে গেলেন শিক্ষিকা মাহরিন
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন ত্যাগ করে পরপারে চলে গেলেন শিক্ষিকা মাহরিন।
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন ত্যাগ করে পরপারে চলে গেলেন শিক্ষিকা মাহরিন
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন ত্যাগ করে পরপারে চলে গেলেন শিক্ষিকা মাহরিন।
Facebook
Twitter
WhatsApp

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন কলেজটির কো-অর্ডিনেটর মাহরিন চৌধুরী (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দুর্ঘটনায় তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হওয়ার তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (২১ জুলাই) রাতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। এর পর মাহরিন চৌধুরীর ভাই মুনাফ মুজিব চৌধুরী ফেসবুকে পোস্ট করে তার বোনের মৃত্যুর খবর জানান। তিনি লেখেন, “মাহরিন আপু আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি আমাকে মায়ের মতো করে বড় করেছেন।”

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ওই সময় স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে গেট পার করানো ছিল মাহরিন চৌধুরীর (৪২) দৈনন্দিন দায়িত্ব। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পরও তিনি নিজে বের হওয়ার চেষ্টা না করে যতজন শিক্ষার্থীকে সম্ভব ছিল, তাদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। এই সময় তার শরীরের অধিকাংশ অংশ দগ্ধ হয়।

মুনাফ মুজিব চৌধুরী ফেসবুকে আরও জানান, মাহরিন মাইলস্টোন স্কুলে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। আগুনের পর, তিনি প্রথমে বের হননি, বরং শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। অবশেষে তিনি ১০০ শতাংশ দগ্ধ হন।

মুনাফ চৌধুরী লেখেন, “আজ দয়া করে আমার প্রিয় বোনের জন্য দোয়া করবেন। তিনি তার দুই ছেলেকে রেখে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার পর আমি আরও বিস্তারিত জানাব।”

দগ্ধ হওয়ার পর মাহরিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ের পর সোমবার রাতে তিনি মারা যান।

এর আগে, মাহরিনের স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, “মাহরিনের পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব কিছু ঝলসে গেছে। ডাক্তার প্রথমে বলেছিলেন কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বার্ন, তবে আমার মনে হচ্ছে তার শরীর ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।”

লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগে স্বামীর সঙ্গে কিছু কথা বলেন মাহরিন। মনসুর হেলাল বলেন, “মাহরিন বলেছেন- স্কুল ছুটির পর বাচ্চাদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই গেটের সামনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। নিজে দগ্ধ হলেও সেসময় তিনি বাচ্চাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।”

তথ্য জাগো নিউজ২৪

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪