পরকীয়া প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গালমন্দ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের শাহপরাণ এলাকার ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন মামলার আসামি জালাল আহমদ (৪০)। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে জালাল আহমদকে শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। জালাল আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জে। তিনি শাহপরাণ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার স্থানীয় লোকজন জালাল আহমদকে সন্দেহবশত আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে জালাল আহমদকে বলতে শোনা যায়, স্থানীয় এক দর্জির স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাব উদ্দিন তাঁকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে ভিডিওতে দাবি করেন জালাল।
তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বুধবার দুপুরে বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হত্যার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, আসামি আদালতে জবানবন্দি দিলে বিষয়টি জানা যাবে। এর আগে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারবেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত একটার দিকে সিলেট মহানগরের শাহপরাণ (রহ.) থানার ইসলামাবাদ এলাকায় শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা করতেন। পরিবার নিয়ে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজের বাসায় থাকতেন।







