সিলেটে ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

Ayas-ali-Advertise
সিলেটে ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
সিলেটে ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।
সিলেটে ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
সিলেটে ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সিলেট জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ঘোষণা করেছে। তারা ৬ দফা দাবিতে এ ধর্মঘট আহ্বান করেছে।

সোমবার (৭জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনের পেছনের মূল কারণগুলো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন।

ময়নুল ইসলাম জানান, সিলেটের পরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সিলেটে অর্থনৈতিক দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করা হচ্ছে। তারা পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বারবার আন্দোলন করলেও সরকার পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা এবং অন্যান্য নিয়ম-নীতি মালিক শ্রমিকদের প্রতি অন্যায় এবং ষড়যন্ত্রমূলক। বিশেষত, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা এবং পুলিশি তল্লাশির নামে শ্রমিকদের হয়রানি হচ্ছে।

এ কারণে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, সিএনজি, ইমা-লেগুনা এবং পাথর সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সিলেট জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ কর্মবিরতি (ধর্মঘট) ঘোষণা করেছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ কমিশনার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনকে লিখিতভাবে এই ঘোষণা জানানো হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা বাতিল করা।
  • সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং পুরানো পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি খোলার দাবি।
  • বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল করা।
  • পরিবহন খাতে আরোপিত অতিরিক্ত ট্যাক্স প্রত্যাহার করা।
  • বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ করা এবং ভাঙচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
  • সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানি বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জানিয়েছেন, এই দাবিগুলি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪