বিশ্বনাথে পিতার স্কুলেই পুত্রের এসএসসি কেন্দ্র, দায়িত্ব ছাড়াই শিক্ষক বাবার অবাধ বিচরণ

Ayas-ali-Advertise
বিশ্বনাথে পিতার স্কুলেই পুত্রের এসএসসি কেন্দ্র, দায়িত্ব ছাড়াই শিক্ষক বাবার অবাধ বিচরণ
অবাধে বিচরণ করেছেন হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম ফকির।
বিশ্বনাথে পিতার স্কুলেই পুত্রের এসএসসি কেন্দ্র, দায়িত্ব ছাড়াই শিক্ষক বাবার অবাধ বিচরণ
অবাধে বিচরণ করেছেন হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম ফকির।
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বে না থাকা এক শিক্ষক পিতার নিজের প্রতিষ্ঠানে পুত্রের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন্দ্রে অবাধে বিচরণ করেছেন এবং প্রশ্নপত্র গণনার সময়ও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগটি উঠেছে পৌর শহরের নতুনবাজার এলাকার হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম ফকিরের বিরুদ্ধে। তার ছেলে মাহাতির মোহাম্মদ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২২১৬১২৯১৯৭, রোল: ৩১২১৯০) এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সৎপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। যদিও তার মূল শিক্ষাজীবন কেটেছে আলহাজ্ব লেচু মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খায়রুল আলম ফকির কোনো দায়িত্বে না থেকেও নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে ছেলেকে বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছেন। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র গণনায়ও তিনি অংশ নেন। এ ঘটনায় অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে, যদিও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এছাড়া জানা গেছে, বিশ্বনাথে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ৪টি কেন্দ্র ও ৪টি ভেন্যু নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার চাপ বেশি থাকায় এ কেন্দ্রে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে কিছু কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে আসন ফাঁকা থাকছে। জনশ্রুতি রয়েছে, এ কেন্দ্রে পাসের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় প্রতিবছর বিভিন্ন বিদ্যালয় নানা কৌশলে এই কেন্দ্রে স্থানান্তর হয়ে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম এবং সচিব ও জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুরহান উদ্দিন বলেন, “আজ (১৫ এপ্রিল) থেকে পরীক্ষার সময় খায়রুল আলম ফকিরকে কেন্দ্রে প্রবেশ না করার জন্য বলা হয়েছে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে খায়রুল আলম ফকির বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। সচিব ও ট্যাগ কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেই কেন্দ্রে গিয়েছিলাম।”

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, “বিষয়টি জানার পরই অভিযুক্ত শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪