রোজায় ৫ রোগের পরামর্শ

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

30340_iftarরোজার মাসে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজা রাখবেন- এটাই স্বাভাবিক। অসুস্থতার কারণে অনেকেই হয়তো রোজা রাখতে পারেন না ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও। আবার অনেকে আছেন যারা হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, পেপটিক আলসার কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে। এ ধরনের ব্যক্তিদের অনেকেই ইচ্ছা থাকার পরও রোজা রাখতে পারছেন না সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকদের মতে, যেসব রোগ ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে ক্ষেত্রে খুব সহজেই রোজা রাখা।
ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও অবলম্বন করতে হবে সতর্কতা। যেসব ডায়াবেটিস রোগী বিশেষ খাবার এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তাদের জন্য রোজা খুব সহজ ও উপকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়। তবে যারা মুখে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখছেন তারাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখতে পারবেন তবে ব্যায়াম করার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে যাতে করে ব্যায়ামের ধকল বেশি হয়ে না যায়। আর ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ব্যবস্থা নিতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে চিনি-মিষ্টি-গুড়-মধু শরবত কিংবা অন্যান্য খাবার থেকে মিষ্টি বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত মিষ্টি না খেয়ে বরং মিষ্টি ফল খেলে একদিকে দেহে শর্করার প্রয়োজন মেটে অন্যদিকে রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক থাকে। এছাড়া তাজা ফল থেকে তৈরি রস ইফতারে রাখা যেতে পারে। খাওয়া যেতে পারে তরমুজ বা বাংগি জাতীয় ফল, ডাবের পানি প্রভৃতি। রাখতে পারেন নানা শাক-সবজিও।
অ্যাসিডিটি সমস্যা: পেপটিক আলসারের রোগী হলে ডুবো তেলে ভাজা এবং ঝাল খাবার বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে তারা খেতে পারেন চিড়া, কলা, চিড়া-দই, মুগের ডালের নরম খিচুড়ি, নুডুলস ইত্যাদি। আবার রোজা রাখার সময় যাতে অ্যাসিডিটি দেখা না দেয় তা প্রতিরোধের জন্য আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত। এজাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সংকোচন প্রসারণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে এতে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। ফলে অ্যাসিডিটি দেখা দেয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণত দৈনিক একবার ওষুধ খেলেই চলে। ইফতারের আগে অথবা রাতের খাবারের আগে তা খেতে পারেন।
কোলেস্টেরলের আধিক্য: রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি থাকলে ইফতারিতে তেঁতুল ও রসুনের চাটনি খাওয়া যেতে পারে। যদি কোন কারণে ডাল খাওয়া নিয়েও সমস্যা থাকে, তাহলে ইফতারিতে চালের গুঁড়া বা ময়দার বড়া এবং চিড়া, দই, নুডুলস, ফ্রায়েড রাইস খাওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন: ওজন বেশি থাকলে তেলের পরিমাণ কমাতে হবে এবং সম্পূর্ণ খাবার থেকে ক্যালরি কমাতে হবে। সুষম খাবার খেয়ে রোজা রেখে ইফতারের আগে হাত-পা সঞ্চালন জাতীয় হালকা ব্যায়াম এবং সময়মতো নামাজ আদায় করলেই অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা রোজা থেকে ওজন কমানোর সুযোগ পান। এদিকে যাদের ওজন কম তাদের জন্য ইফতারিই আদর্শ ।
হাই-ব্লাড প্রেসার: উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বেলায়ও একই ব্যবস্থা অবলম্বন করা যায়। তবে কথা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ওষুধ পরিবর্তন করার সময় অবশ্যই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। কারণ ওষুধ পরিবর্তনের ফলে রক্তচাপ খুব সহজে নিয়ন্ত্রণে নাও আসতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তারা যদি রোজা রাখার জন্য নতুন শিডিউলে ওষুধ গ্রহণ করতে চান সে ক্ষেত্রে সপ্তাহখানেক আগে থেকে নতুন শিডিউলের ওষুধ গ্রহণ করে ট্রায়াল দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, রমজান মাসে যে খাবারই গ্রহণ করুন না কেন, তা যেন সহজপাচ্য ও সীমিত হয়। কারণ, এ সময় অতিরিক্ত খাবার দেহের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তন আনে, ফলে রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এতে শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হয়। অর্থাৎ বেশি খাবার খেয়েও কোনো লাভ হয় না। এমনভাবে খেতে হবে যাতে এক মাস নির্বিঘ্নে রোজা রাখা সম্ভব হয়।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪