সিলেটের জকিগঞ্জে একই দিনে ছেলে ও বাবার মৃত্যু হয়েছে। কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা। কিছুক্ষণ পর তাঁরও মৃত্যু হয়। বাবা-ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাসুক আহমেদ (৩৮) শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
মাসুক আহমেদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭) অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্বজনেরা জানান, মাসুক আহমেদের বিয়ে হয়েছিল সম্প্রতি। নতুন সংসার নিয়ে তাঁর নানা স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর হাতে বিয়ের মেহেদির দাগ এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি বলে জানান স্বজনেরা।
ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাবার মৃত্যুতে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক। বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে খিলগ্রাম ও আশপাশের এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে তাঁদের বাড়িতে ছুটে যান।
খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর বাবাও মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদন বিবেচনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।





