ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সার্বিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে ভিসাও তুলে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নেওয়ার পর একটি স্থানে বসিয়ে রেখে উধাও হয়ে যান দালাল চক্রের সদস্যরা। পরে ভিসা যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, সেগুলো জাল।
এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের কথিত প্রধান আই এ মারুফ আহমদ (৩৪)কে আটক করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় র্যাবের গণমাধ্যম শাখা এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক মারুফ জালালাবাদ থানার পাইকরাজ এলাকার মৃত হাবিব আহমদের ছেলে।
র্যাব জানায়, আম্বরখানার গোল্ডেন টাওয়ারে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে একটি ট্রাভেলস এজেন্সির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন মারুফ ও তাঁর সহযোগীরা। তারা ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় লোক পাঠানোর প্রচারণা চালাতেন।
র্যাবের ভাষ্য, তাঁদের প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোস্তফানগর এলাকার আফতাব উদ্দিন তাঁর ছেলে ও শ্যালককে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সার্বিয়া পাঠানোর জন্য ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তিনি পুরো টাকা পরিশোধ করেন। গত বছরের ২০ নভেম্বর মারুফ ও তাঁর সহযোগী কে এম জাকির আহমদ মনি তাঁদের হাতে ভিসা তুলে দেন।
গত ১৬ ডিসেম্বর সার্বিয়া পাঠানোর কথা বলে তাঁদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি স্থানে বসিয়ে রেখে মারুফ ও মনি চলে যান। কয়েক ঘণ্টা পর মারুফ ফোন করে জানান, ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছে। পরে তাঁদের সিলেটে ফিরে যেতে বলা হয়।
সিলেটে ফিরে ভিসা যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, সেগুলো জাল এবং অনলাইনে ভিসার কোনো তথ্য নেই। পরে টাকা ফেরত চাইলে মারুফ ও তাঁর সহযোগীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৪ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (নং-৩) করেন ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিন। অভিযোগের পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অভিযান চালিয়ে মারুফকে আটক করে।
র্যাবের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, আটক মারুফকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।






