রামিসা হত্যা মামলার রায়: সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অর্থ ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে পরিশোধ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরদিন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মরদেহ গুমে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

তদন্তের মাত্র চার দিনের মাথায়, ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

গত ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ওই দিনই ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। পরে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে তাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের ঘরের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান।

একপর্যায়ে পরিবার ও স্থানীয়রা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সম্ভাব্য শিরোনাম:
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: ১৯ দিনের মাথায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪