বিশ্বনাথে প্রবীণ শিক্ষাবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, কারিকোনা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও এলাকার সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হাজী মো. আব্দুল বারী আর নেই। গত শুক্রবার রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট নগরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শনিবার বিশ্বনাথ পৌরশহরের কারিকোনা গ্রামের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের ভাইপো হাফিজ জাবেদ আহমদ। দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ আব্দুল মোছাব্বির এবং পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মরহুমের দ্বিতীয় পুত্র আসিফ আল মামুন।
বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়েরের পরিচালনায় মরহুমের জানাজার নামাজে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের প্রাক্তন ছাত্র ও বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজুল হক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ইব্রাহিম খলিল, বিশ্বনাথ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি ফয়জুর রহমান, বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, নায়েবে আমির মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এম. মাহবুব আলী জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন মামুন, বিশ্বনাথ থানা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আজাদ, সালিশ ব্যক্তিত্ব মো. ইরন মিয়া, শেখ মো. নুর মিয়া, শেখ হাবিব উল্লাহ মাস্টার দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ শাহিদুর রহমান, সাবেক মেম্বার আব্দুল সোবহান, প্রবাসী আব্দুল কাদির রানুসহ প্রমুখ।
বিশ্বনাথ পৌরসভার কারিকোনা গ্রামে ১৯৪৪ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। হাজী মো. আব্দুল বারী ছিলেন কারিকোনা গ্রামের ছোয়াব আলী ও জেবুন নেছা সিতারা দম্পতির পুত্র। বিশ্বনাথের ঐতিহ্যবাহী রামসুন্দর অগ্রগামী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করে সিলেট সরকারি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর শিক্ষকতার মহান পেশায় যোগদান করেন। তাঁর কাছে শিক্ষাগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত।
পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময় তিনি জনস্বাস্থ্য বিভাগের ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অবসরের পর তিনি নিজ এলাকার অসহায় মানুষের একজন বিশ্বস্ত অভিভাবক হিসেবে কাজ করে গেছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মানবসেবার পাশাপাশি নিজ গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
গত কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে, ৫ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।






