বিশ্বনাথের শিশু হত্যার ঘটনায় ওসমানীনগরে মহাসড়ক অবরোধ

Ayas-ali-Advertise
বিশ্বনাথের শিশু হত্যার ঘটনায় ওসমানীনগরে মহাসড়ক অবরোধ
বিশ্বনাথের শিশু হত্যার ঘটনায় ওসমানীনগরে মহাসড়ক অবরোধ
বিশ্বনাথের শিশু হত্যার ঘটনায় ওসমানীনগরে মহাসড়ক অবরোধ
বিশ্বনাথের শিশু হত্যার ঘটনায় ওসমানীনগরে মহাসড়ক অবরোধ
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কিশোর রবিউল ইসলাম নাঈয়ুম হত্যার প্রতিবাদে মহদেহ নিয়ে সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনরা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৬টা থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা তারা ওসমানীনগর থানার সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এর আগে, রোববার (৩ আগস্ট) সকালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর এলাকার রেললাইনসংলগ্ন একটি ডোবায় অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। কুলাউড়া থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অজ্ঞাত হিসেবে থানায় রাখে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে পরিবার শনাক্ত করে যে মরদেহটি নিখোঁজ থাকা রবিউল ইসলাম নাঈয়ুমের। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়—রবিউলকে হোটেল মালিক বলৎকারের পর হত্যা করা হয়েছে।

নিহত রবিউল ইসলাম নাঈয়ুম (১৪) বিশ্বনাথ উপজেলার আটঘর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে। সে ওসমানীনগর উপজেলার গদিয়ারচর গ্রামে তার নানার বাড়িতে বসবাস করত এবং স্থানীয় ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নাইট শিফটে কাজ করত।

রবিউলের নানী বেলা বিবি বলেন, “একদিন বাড়ি এলে দেখি তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন। জানতে চাইলে সে বলে, হোটেল মালিক বুলবুল তাকে জোর করে অনৈতিক কাজ করেছে। পরে সে হোটেলে গিয়ে নিজের জিনিস আনতে গেলে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফেসবুকে তার মরদেহ শনাক্ত করি।”

পরিবারের অভিযোগ, তারা কুলাউড়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এরপর ওসমানীনগর থানায় গেলেও একইভাবে মামলা গ্রহণে তালবাহানা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী ওসমানীনগর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

অবরোধ চলাকালে রবিউলের ভাই অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা দিয়েও মামলা করতে পারিনি। শুরু থেকেই পুলিশ গড়িমসি করছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানাই।”

বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে রাতের দিকে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়।

ওসমানীনগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনহার আহমদ বলেন, “প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। আমরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”

পরে মঙ্গলবার রাতে জানাজা শেষে রবিউলের মরদেহ তার নানার বাড়ি গদিয়ারচর গ্রামে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, “মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। যেহেতু ঘটনাটি কুলাউড়া থানার অন্তর্গত এলাকায় ঘটেছে, তাই সেখানে মামলা করার কথা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪