ব্রিটেনে বিশ্বনাথী স্ত্রীকে খুনের দায়ে ২৮ বছরের সাজা সিলেটের মাসুমের

Ayas-ali-Advertise
ব্রিটেনে স্ত্রীকে খুনের দায়ে ২৮ বছরের সাজা সিলেটের বিশ্বনাথের মাসুমের।
ব্রিটেনে স্ত্রীকে খুনের দায়ে ২৮ বছরের সাজা সিলেটের বিশ্বনাথের মাসুমের।
ব্রিটেনে স্ত্রীকে খুনের দায়ে ২৮ বছরের সাজা সিলেটের বিশ্বনাথের মাসুমের।
ব্রিটেনে স্ত্রীকে খুনের দায়ে ২৮ বছরের সাজা সিলেটের বিশ্বনাথের মাসুমের।
Facebook
Twitter
WhatsApp

ব্রিটেনে স্ত্রী কুলসুমা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি নাগরিক হাবিবুর মাসুমকে ব্র্যাডফোর্ড ক্রাউন কোর্ট ২৮ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাবিবুর অন্তত ২৮ বছর কারাভোগ না করে মুক্তি পাবেন না।

সুত্রে জানা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর মাসুম ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ব্র্যাডফোর্ড শহরের কেন্দ্রে তার ২৪ বছর বয়সী স্ত্রী কুলসুমাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। সেই সময় কুলসুমা তার সাত মাস বয়সী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মাসুম কুলসুমাকে অন্তত ২৫ বার ছুরিকাঘাত করেন এবং ঘটনার পর শান্তভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আদালতের শুনানিতে জানা গেছে, মাসুম এবং কুলসুমার সম্পর্ক ছিল সহিংসতার দ্বারা পরিপূর্ণ। ২০২৩ সালের শেষদিকে ম্যানচেস্টারে তাদের বাসায় একটি ঘটনায় মাসুম কুলসুমার গলায় ছুরি ধরেন। পরবর্তীতে কুলসুমা নিরাপত্তার জন্য একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। তবে মাসুম ফোন ট্র্যাকিং, হুমকি এবং মিথ্যা জিপি অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে তার অবস্থান জানতেন।

২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল মাসুম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা দাবি করেন যে, তিনি স্পেনে আছেন। কুলসুমা বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হলে, মাসুম তাকে আটকিয়ে ছুরিকাঘাত করেন। আদালত জানায়, মাসুম আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন এবং পূর্বেই হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

ঘটনার পর মাসুম ২০০ মাইল দূরে আইলসবেরি এলাকায় পালিয়ে যান এবং সেখানেই ৯ এপ্রিল গ্রেফতার হন। ওই সময় তিনি একটি স্থানীয় হাসপাতালের পার্কিংয়ে অবস্থান করছিলেন।

কুলসুমা ও মাসুমের পরিচয় এবং বিয়ে বাংলাদেশে হয়। ২০২২ সালে মাসুম শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসেন এবং তারা ওল্ডহ্যামে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তখন থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা দেখা দেয়।

একবার কুলসুমা তার পুরুষ সহকর্মীর নির্দোষ বার্তা পেলে মাসুম তাকে সন্দেহ ও হুমকি দেন। ফলে তাদের সম্পর্কের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়। এরপর কুলসুমা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

রায়ের পর, কুলসুমার পরিবার এক আবেগঘন বিবৃতি প্রদান করে জানায়, কুলসুমা ছিল একজন অত্যন্ত প্রিয় কন্যা, বোন, খালা ও মা। তার মৃত্যু পরিবার ও বন্ধুদের জীবনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তারা মাসুমের নাম নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, মাসুম শুধু তাদের নয়, তার শিশুটির কাছ থেকেও কুলসুমাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা আরও জানান, এই শিশুটি কখনো তার মাকে জানতে পারবে না—শুধু গল্প এবং ছবির মধ্যে তার মা থাকবে। তবে এই শিশুই তাদের জীবনের একমাত্র আলো।

পরিবার রায়কে স্বাগত জানালেও, বলেছে যে, কারাদণ্ডের মেয়াদ কখনও তাদের যন্ত্রণাকে কমাতে পারবে না।

নিহত কুলসুমা আক্তার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের শেখরগাওঁ গ্রামের বাসিন্দা। তবে তথ্যসূত্রে কেবল উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুলসুমা আক্তারের মা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের একটি গ্রামে বসবাস করেন।

এদিকে, হাবিবুর মাসুমের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় প্রকাশ করা হলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুমের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জে এবং বিশ্বনাথে তার নানা বাড়ি। ব্যবসায়ীক কারণে তার বাবা বিশ্বনাথে থাকতেন, তাই মাসুমও সেখানে বসবাস করতেন।

তথ্য সুত্র:: .Sky news

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪