বিশ্বনাথে স্কুল-কলেজের সামনে ময়লার ভাগাড়

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

আব্বাস হোসেন ইমরান :: সিলেটের বিশ^নাথ উপজেলার নতুন বাজার গোলচত্বর থেকে উপজেলা পরিষদ সড়কের প্রবেশমুখে হাজী মফিজ আলী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের মূল গেইটের সামনের খোলা অংশটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এই ময়লা-আবর্জনার দূর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারীসহ এলাকাবাসীকে। পাশাপাশি, তাদেরকে পড়তে হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। অথচ, অসংখ্য ব্যাংকের শাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারী-বেসরকারী অফিস থাকার কারণে নতুন বাজারের ওই এলাকা অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।
গত সোমবার বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের নতুন বাজার ও পুরান বাজারে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও মশক নিধন অভিযান কর্মসূচি পরিচালনা করে ‘বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ’ ও ‘সচেতন বিশ্বনাথ সমাজকল্যাণ সংস্থা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে হাজী মফিজ আলী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের মূল গেইটের সামনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেনি তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় কতিপয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ির ময়লা নিয়মিতই এখানে ফেলা হয়। বিশেষ করে, রাতের বেলাই ময়লা ফেলা হয় বেশী। যারা ময়লা ফেলে, তাদেরকে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাদের উল্টো প্রশ্ন, এখানে ময়লা না ফেললে, তা ফেলব কোথায়? উপজেলা সদরের কোথাও তো ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নেই।
হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। বাতাসের মাধ্যমে এই দুর্গন্ধ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও চলে আসে। অথচ, এসব ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা যাদের দায়িত্ব, তারা একেবারে নির্বিকার।
কয়েকজন পথচারী বলেন, স্থানটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় এর পাশ দিয়ে যাতায়াত করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। উপজেলার সচেতন মহলের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় ময়লার ভাগাড় তৈরী হলেও এগুলো অপসারণে কর্তৃপক্ষ কেন নিশ্চুপ? তারা মনে করেন, যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে না ফেলে আপাতত ওই জায়গাতেই একটা নির্দিষ্ট বড় গর্ত করে যদি ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, তাহলে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
গত সোমবার পজেলা সদরের নতুন বাজার ও পুরান বাজারে পরিচালিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও মশক নিধন অভিযান কর্মসূচির আয়োজক ‘বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ’ ও ‘সচেতন বিশ্বনাথ সমাজকল্যাণ সংস্থা’র আহবায়ক ফজল খান জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটের কারণে ইচ্ছে থাকাস্বত্তেও হাজী মফিজ আলী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের সামনের ময়লা, বাসিয়া ব্রীজ ও ফুট ব্রীজের নীচের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, এগুলো অপসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিশ্বনাথ নতুন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি শামীম আহমদ বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের অতি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাজারে এতদিনেও ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা করা যায়নি। এটা খুবই দুঃখজনক। এই কারণেই যত্রতত্র ময়লা ফেলে স্তুপ করা হচ্ছে। আমরা অনেকবার উপজেলা প্রশাসনের সাথে এ নিয়ে আলাপ করেছি। বলেছি, আমরা নির্দিষ্ট জায়গা দেব। আপনারা ব্যবস্থা নিন।
হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নেহারুন নেছা বলেন, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিষ্ঠানটির একেবারে প্রবেশমুখে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় থাকার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ে। শুধু তাই নয়, একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে অতিরিক্ত দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ফলে ক্লাসেও অসুবিধা হয়। এই দূর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হবারও ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক বলেন, হাজী মফিজ আলী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের সামনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ (বৃহষ্পতিবার) উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আমরা বৈঠকে বসব।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। এখন গুরুত্ব সহকারে দেখব।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪