সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার ও মসজিদ এবং ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানকোঠার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা একটার দিকে সিলাম এলাকার চকবাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদি। অন্য আহতরা হলেন শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল, শাহ সুমন, শাহ বদরুল, শাহ হাসান উদ্দিন, শাহ মাহির, শাহ রাজিব, শাহ সায়েম, শাহ সাদি, শাহ আব্দুর রহিম, শাহ আশিকুর রহমান এপলু, শাহ সাবের, শাহ রাসেল, শাহ ফাহিম, শাহ সাইফ, শাহ আজমল, শাহ আশরাফ, শাহ আবজল, শাহ সাইদ, শাহ তুহিন, শাহ দুলাল, শাহ আলবাব, শাহ ওয়াহিদ, শাহ হারুন, শাহ ইয়াসির ও শাহ নয়ন।
আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে আসেন। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার, মসজিদ ও ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানকোঠার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।
পরে মোগলাবাজার থানা-পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
ওয়াকফ এস্টেটের কমিটি নিয়ে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি এবং মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। এ ছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।
ওই আদেশের পর শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। রিট পিটিশন নম্বর ১০৭৬৭/২৬। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়।
বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের আদালতে শুনানি শেষে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়।
তবে সাময়িক সময়ের জন্য ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য মোতাওয়াল্লী হিসেবে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিরোধের জেরেই শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে।





