বালাগঞ্জে স্বামীর বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত ৪ সন্তানের জননী

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

বালাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ার গাঁও গ্রামে ৪ সন্তানের জননী রেহেনা বেগমকে বেধড়ক মারধরের বিষয়ে স্বামী কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রক্তাক্ত গুরুতর আহত রেহেনা বেগমকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় বালাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন রেহেনা বেগমের পিতা ইলাল মিয়া। আলাপকালে বালাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভিকটিম ও তার পরিবার এবং বালাগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাড়িয়ার গাঁও গ্রামের কুতুব মিয়া (৪০) গত ৯ আগস্ট বিকাল আনুমানিক ২টার দিকে তার স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী রেহেনা বেগমকে (৩০) বেধড়ক মারপিট করেন। স্থানীয় প্রতিবেশী এবং রেহেনার স্বজনরা তাকে মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেহেনা বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে রেহেনা বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পরদিন রেহেনার স্বজনরা তাকে তার বাবার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার জোড়াপুর গ্রামে নিয়ে আসেন।

এদিকে রেহেনা বেগমের পিতা ইলাল মিয়া (৫৯) বাদী হয়ে জামাতা কুতুব মিয়া ও তার বড় ভাই আশিক মিয়াকে বিবাদী করে গত ১২ আগস্ট বালাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। রেহেনা বেগম এবং তার পিতা ইলাল মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ জানান, কুতুব মিয়া অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে অবৈধ পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত আছেন। অবৈধ পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দিলে রেহেনার স্বামী প্রায়ই তাকে বেধড়ক মারধর করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে দফায় দফায় সালিশ-সমঝোতা করেও স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহেনাকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট বিকালে ঘটনার দিন বেধড়ক মারপিট করে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক রক্তাক্ত করেছেন। লিখিত অভিযোগে ইলাল মিয়া দাবি করেন, “অভাব-অনটনে পড়লেই ১নং বিবাদী আমার মেয়েকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আমার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা-পয়সা নিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। আমার মেয়ে রেহেনা বেগম ১নং বিবাদীর কথার বিরোধিতা করলেই মারধর শুরু করে এবং তাহাকে মারধরের কাজে তার বড় ভাই ২নং বিবাদী আশিক মিয়া সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে।” ঘটনার দিন ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে রেহেনাকে মারধর করা হয়েছে বলে ইলাল মিয়া লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কুতুব মিয়া তার স্ত্রী রেহেনা বেগমকে মারধরের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তার ঘরে থাকা বৃদ্ধা মায়ের সেবাযত্নে ত্রুটি করার কারণে ঘটনার দিন মেজাজ হারিয়ে স্ত্রী রেহেনা বেগমকে মারধর করেছেন। স্বামী কুতুব মিয়া অন্য কারও সঙ্গে নিজের পরকীয়া সম্পর্ক বা স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি অথবা এ ঘটনায় তার বড় ভাই আশিক মিয়া জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন।

বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় সদস্য শেখ আব্দুল করিম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রেহেনা বেগম এবং কুতুব মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দাম্পত্যকলহ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, এ বিষয়ে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসা করে দেওয়ার পরও তাদের কলহ থামছে না। চেয়ারম্যান এম. মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপোষে মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইলাল মিয়ার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে বালাগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ঘটনার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মামলার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪